শ্রদ্ধেয় আদর্শ গ্রামের খোলা মনের প্রিয় পাঠক।
আমি এই পেইজে কোন দিন কোন কিছু লিখিনি।এই পেইজে কিছু কিছু লোকের লেখা লেখি দেখে অনুপ্রাণিত হলাম।অনেকেই বেশ গুচিয়ে সাজিয়ে লিখেছেন এই পেইজে।
তাই লিখব কি লিখবনা এই ভেবে এক কদম আগাচ্ছিতো আবার দুই কদম পিচিয়ে যাচ্চি।নিজের গ্রামের নিজেদেরইতো পেইজ
যাই হোকএই ভেবে অনেক চিন্তা ভাবনার পরে লিখা শুরু করলাম।
এইতো গত কাল বাপ বেটা মিলিয়া এয়ার পোর্ট গেলাম।চারিদিকে কোলাহলে পূর্ণ,কেউ তার বাবাকে,কেউ তার ভাইকে কেউবা তার বউকে মুচকি হাসি দিয়ে সাদরে গ্রহন করিতেছে আবার কেউ কেউ প্রিয়জনের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছে।
আমরা দুজনে ই বোবার মত কোন এক মূর্তির মত দাড়াইয়া রহিলাম।
একটু ভাবতে লাগিলাম,মনে হল এইতো সেদিন বাবা আসিয়াছিলেন।কিন্তু দেখিতে দেখিতে ৫০ দিন যে কি ভাবে চলিয়া গেল বুঝতেই পারিলাম না। রাত ১০ টা বাজিয়া গেল, তাই বাবা তাড়াহুড়া করিতেছেন ভিতরে যাইবার জন্যে।যতই সময় বাড়িতেছে ততই যেন হৃদয়ের ক্রন্দন ধ্বনি উত্তাল সাগরের ঢেউ এর ন্যায় আচঁড়ে পড়িতেছে।
তাই বিদায়ের ঘন্টা বাজার সাথে সাথে বুকের ভিতর টা হু হু করিয়া না কাঁদিয়া পারল না।মনে হল এই বুঝি ভূমিকম্প শুরু হইয়াছে।
আশ্রু সিক্ত নয়নে নিষ্পাপ চেহারার দিকে তাকাতেই বাবা বুকে জরাইয়া নিতে একটু ও দ্বিধাবোধ করিলেন না।
আমি নিজেও জানিনা এই বন্ধন মরন অব্দি পর্যন্ত থাকিবে কিনা।
আজ নিজেকে নিজেই মনের অগোচরে বলিতে লাগিলাম, ইস যদি এই ভাবেই আমরা দু জন অনন্ত কাল চলিতে পারিতাম,হাতে হাত রাখিয়া কাঁদে কাদ রাখিয়া।
যদি শেষ না হত এই পথ চলা।
এই খোকা মন খারাপ করিয়না।
তোমরাই তো আমার পৃথিবী,তোমরাই তো আমার সব।
তোমাদের জন্য কষ্ট করিব নাতো কার জন্য করিব?
তোমরা যদি সুখে থাক তবে সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
মন খারাপ করিয়না দেখিতে দেখিতে আবার এক বছর কাটিয়া যাইব।
আর দেড় থেকে দুই বছর পরে দেশে আসিয়া দু জনে মিলে ভালো একটা ব্যবসা করিব।
আবার আমরা এক সাথে চলিব,ঘুরব ফুর্তি করিব।
এর পরেই কোলাকুলি ও হ্যান্ডসেক করিয়া একটা দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলিয়া বলিলেন ইস যদি বাংলাদেশ জয়ী হত তাহলে আরও একটু ভালো লাগিত।এই বলিয়া আমার কাছ থাইক্কা বিদায় নিয়া ক্যানোপির পাশ দিয়া এয়ারপোর্ট এ প্রবেশ করিলেন।
আচমকা এক দমকা ঝড়োহাওয়া আমাকে ভাবাইয়া দিল , এই বুঝি জীবন যাকে প্রাণের চাইতে বেশি ভালবাসি সে আজ আমাদের ছাড়িয়া অনেক দূরে চলিয়া যাচ্ছে।
তখন নিমিষেই মনের অজান্তে জ্বলন্ত দুম্র শলাকার ধোঁয়ার মত আমাকে ইমোশনাল করিয়া দিল।
তখন ভাবনা গুলো মনের বন্দ বাতায়ন খুলিয়া দিল।
তখন ই মনে হল আসলে
প্রতিটি বাবাই এক একটা বীর সৈনিক।
জীবন নামক কঠিন ভিলেন এর সাথে যুদ্ধ
করতে করতে এক সময় দেহটাই নষ্ট হয়ে যায়, তার পর ও করতে হয়।
আর তা শুধুই করতে হয় রুটির জন্য।
প্রতিটা বাবাই রুটির জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে।
আমি ও আজ বাবা হয়েছি,তাই আমাকে ও এই রুটির যুদ্ধ করতে হবে,এগিয়ে যেতে হবে,এই শিক্ষা ই পেলাম বাবার কাছ থেকে।
তাই স্যালুক সব বাবা কে। তাই
প্রতিটি বাবাই বেঁচে থাক প্রতিটি সন্তানের হৃদয়ে হাজার বছর ধরে।
মিস ইউ বাবা, লাভ ইউ



No comments:
Post a Comment