কিছু দিন আগে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য যাত্রা করলাম । ঘাটে এসে নৌকায় উঠলাম l তখন ৮-৩০ am । ৮-৪০ মিনিটে নৌকা ছাড়বে । শীতের সকাল তাই সাধারণ যাত্রীর সংখ্যা কম অথবা নাই বললেই চলে । কিন্তু ছাত্র ছাত্রী তে নৌকা প্রায় বোঝাই । সবাই আমাদের গ্রামেরই ছাত্র ছাত্রী । বেশীর ভাগই six থেকে ten এ পড়ুয়া l আমি এক কোণে দাঁড়িয়ে রইলাম । নৌকা তখন ছেড়ে দিল,ওদের চিল্লাচিল্লিতে আমার একটু বিরক্তি লাগল । যে যার মত কথা বলতে লাগল,আমার মনে হল আমি কোন পোল্ট্রি ফার্মে বসে আছি । সবাইকে দেখতেছি আর ভাবতেছি,হঠাতই ফিরে গেলাম অনেক বছর পিছনে । ১৮-১৯ বছর পিছনে,তখন আমি ওদেরই বয়সী ছিলাম। সুনামগঞ্জের জুবিলী স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র আমি,আমি সহ আমার গ্রামের প্রায় ৯০থেকে ১০০জন ছাত্র ছাত্রী মিলিত হতাম চিরচেনা ভাঙ্গতীর মাথায় (নানু চাচার দোকানের পাশে )স্কুলে যাওয়ার জন্য নৌকার অপেক্ষা করতাম । নৌকা আসত ৮-৪০থেকে ৮-৫০এর ভিতরে,ছাড়ত ৯-০০টায় lআমাদের ভিতর শুরু হত তুমুল প্রতিযোগীতা কে আগে ওঠবে । হুরুহুরি করে নৌকায় উঠতাম । কেউ ছাদের উপর কেউ যেতাম ভিতরে । ছাদের উপর উঠতে আবার অনেক বাধা,চালকরা উঠতে দিতনা । কোনভাবে উঠতে পারলে ভাবতাম হিমালয় জয় করে ফেলেছি । আর যদি বৃষ্টি থাকত তবে ভিতরে যাওয়ার জন্য পাগল হতাম সবাই । চলত হই হুল্লোর আর চিল্লাচিল্লি,একজনের কথার জন্য অন্য জনের কথা বুঝা যেতনা । চলত তুমুল হইচই,সাধারণ যাত্রী যদি কেও থাকত তবে কিযে বিরক্ত হত তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । অজান্তেই বিরক্ত করতাম,আমদের সেই বোধ তখন ছিলনা ।

একটা কথা না বললেই নয়,গ্রামের সবার সহযোগিতায় আমাদের জন্য প্রতিদিন এক সময়ে নৌকা থাকত ।...জিবন থেকে কখন যে এত গুলো বছর চলে গেলো বুঝতেই পারিনি । আজ আমি তিন সন্তানের জনক আর এমনই কোন নৌকার সাধারণ যাত্রী । তাই আমি বিরক্ত হলেও বিরক্তিটা উপভোগ করি আর অতীতের সৃতিচারণা করি । ভাবতে ভাবতে হঠাত্ দেখি নৌকা পারে ভিড়ে গেলো । বিশ মিনিটের যাত্রা আমাকে বিশ বছর পিছনে নিয়ে গিয়েছিল । আজ আর পিছনে ফেরার সুযোগ নাই,তরিগরি করে নামলাম আর ছুটতে চললাম,জানিনা এই ছুটা কখন শেষ হবে । আমি বিশেষ কিছু হতে পারিনি,তবে আমি চাই এই প্রজন্মের কেও যেন আমার মত না হয়l সবার উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
লেখক-- হাসিনুর রহমান রুবেল (ভাদেরটেক মধ্যপাড়া) ।
No comments:
Post a Comment